শুক্রবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩:১১, ৫ মে ২০২৪

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যু, হাসপাতাল ভাঙচুর

নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি-নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ এনে একটি হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিভিল সার্জন অফিসের একটি চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জেলা শহরের ‘মাইজদী আধুনিক হাসপাতালে’ শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শারমিন আক্তার সীমার বয়স ২১ বছর। তিনি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের জহির উদ্দিনের স্ত্রী ও নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুনের মেয়ে।

স্বজনরা জানান, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে শারমিনকে মাইজদী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশিকা কবির নামে ঢাকা থেকে আসা এক চিকিৎসক বেলা ২টার দিকে শারমিনের সিজার করেন। এ সময় তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও চিকিৎসক বিষয়টি গোপন রাখেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে দুজনকে আইসিউ রাখার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারমিন ও চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে তার নবজাতক শিশু মারা যায়।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছলে শারমিনের স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে মাইজদী আধুনিক হাসপাতাল ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন হাসপাতালের অভ্যর্থনা কক্ষ, জরুরি বিভাগ, ফার্মেসি ও জেনারেটর রুম ভাঙচুর করে।

এতে হাসপাতালের হুইল চেয়ার, গ্লাস ও রোগীর বিছানাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর জেলা সিভিল সার্জন অফিসের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

শারমিন আক্তারের চাচা আব্দুল আজিজ বলেন, “শুক্রবার দুপুরে আমার ভাতিজির সিজার হয়। এরপর নবজাতকের অবস্থা ভালো নয়; তাকে আইসিউতে রাখতে হবে বলে আমাদের জানানো হয়। আমরা শারমিনের বাচ্চাকে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই।

“রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেন, নবজাতকের মায়ের অবস্থাও ভালো না; তাকেও আইসিউতে রাখতে হবে। তার অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার তিন ঘণ্টার মাথায় শারমিন মারা যায়। সকালে নবজাতক মারা যায়।”

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন মাইজদী আধুনিক হাসপাতাল ঘেরাও ও ভাঙচুরের পর একটি পক্ষ সেখানে বসে টাকা বিনিময়ে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন শারমিন আক্তারের চাচা।

এ বিষয়ে মাইজদী আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেসবাহ উদ্দিন রয়েল বলেন, “রোগীটা আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক তানজিনা সুলতানার আন্ডারে ছিল৷ শুক্রবার সকালে রোগীকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়; দুপুরে আশেকা কবির তার সিজার করান।

“সিজারের পর নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আমরা আইসিউর জন্য ঢাকায় রেফার করি। তারা চট্রগ্রামে নিয়ে যায় “

তিনি বলেন, “শনিবার চট্টগ্রামে নবজাতক ও ঢাকায় প্রসূতি মারা যায়। সন্ধ্যায় নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে। এতে হাসপাতালের হুইল চেয়ার, গ্লাস, রোগীর বেডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” 

হাসপাতালটির চেয়ারম্যান নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেয়র মো. রফিকুল বারী বলেন, “প্রসূতি নারী ও নবজাতক কেউই আমাদের হাসপাতালে মারা যায়নি। আমাদের হাসপাতাল থেকে যাওয়ার সময় প্রসূতি আমার সঙ্গে কথা বলে গেছে।

“তারপরও স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর করে। এতে হাসপাতালের প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল ও জিনিসপত্রের ক্ষতি হয়।”

নোয়াখালী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলছেন, “মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমরা হাসপাতালে যাই এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। এ সময় চিকিৎসক আশেকা কবিরসহ অপারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি।” ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়